ইতিহাসে অনন্য সাক্ষী! মেজিয়ার ভাঁটরা গ্রামের প্রাচীন বাবা ভাঁন্ডবেশ্বরের পুজো

Malay Singha
0


স্কাই বাংলা, বাঁকুড়া:  চৈত্র সংক্রান্তিতে একসময় ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হতো চড়ক পূজো। তবে একটি অঘটনের পর সেই প্রাচীন প্রথা বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যদিও চড়ক আর হয় না, তবু শিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাস এলেই ভক্তদের ঢল নামে মেজিয়ার ভাঁটরা গ্রামের বাবা ভাঁন্ডবেশ্বর শিব মন্দিরে। পার্শ্ববর্তী গ্রাম সহ মেজিয়া এলাকার বহু ভক্তরা এখানে আসেন শিবপুজোয় অংশ নিতে। শিবের মাথায় জল ঢালতে উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ দেয় এলাকার মানুষের গভীর আস্থার।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা পতিত পাবন বাবুর কথায়, এই স্থানটির ইতিহাস বহু পুরোনো। তিনি জানান, পূর্বপুরুষদের মুখে শোনা কাহিনি অনুযায়ী বর্গী আক্রমণেরও আগে এখানে দেবাদিদেব মহাদেবের অধিষ্ঠান ছিল। সেই সময় থেকেই স্থানটি ধর্মীয়ভাবে পবিত্র বলে মানা হয়।

শিবের মাথায় জল ঢালতে উপচে পড়া ভিড়, নিজস্ব চিত্র 
লোককথা আরও বলছে, পরবর্তী সময়ে এক সন্ন্যাসী এই জায়গাটিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে যান। তখন কোনো স্থায়ী মন্দির ছিল না; একটি গাছের তলাতেই সামান্য আয়োজন করে পুজো হতো। তবু ভক্তদের বিশ্বাস ও ভক্তিভাবের কোনো ঘাটতি ছিল না।

সময়ের স্রোতে সেই ছোট্ট গাছতলার পুজো আজ এক পূর্ণাঙ্গ মন্দিরে রূপ নিয়েছে। প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে স্থানটি শুধু উপাসনার কেন্দ্র নয়, এলাকাবাসীর আধ্যাত্মিক আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্য একইভাবে টিকে থাকবে এবং আরও ভক্তকে আকর্ষণ করবে। 

শিবরাত্রিতে ভিড় ভক্তদের , নিজস্ব চিত্র 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
To Top