পুজোর পর মায়ের মুখ দেখেননা পরিবারের সদস্যরা, সন্ধ্যা নামতেই চুপিসারে হয়ে যায় বিসর্জনও

Malay Singha
0

স্কাই বাংলা: রাজত্ব না থাকলেও রয়েছেন রাজা। বাঁকুড়া জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পুজো ছাতনা রাজবাড়ীর দুর্গাপূজা। নিজের হাতে পূজা করেন বর্তমান রাজা। একদম নিখুঁত ভাবে প্রথা মেনে করা হলেও পুজোর পর মায়ের মুখ দেখেননা রাজ পরিবারের সদস্যরা। জান না মায়ের মন্দিরেও । সন্ধ্যা নামতেই চুপিসারে হয়ে যায় বিসর্জন। কিছু কেন এই উদ্ভট নিয়ম ? 
রাজ পরিবার সূত্রে জানা যায় চণ্ডীদাসকে কেন্দ্র করে সামন্তভূম ছাতনা এবং মল্লভূম বিষ্ণুপুরের মধ্যে তৈরি হয় বিবাদ। সেই বিবাদের জেরেই শুরু হয় ৬০০ বছরের প্রাচীন এই দুর্গাপূজা।

ছাতনা রাজবাড়ীর বর্তমান রাজা প্রদীপ সিংহ দেও জানান, ছাতনার ভূমিপুত্র চারণকবি বড়ু চন্ডীদাসকে কেন্দ্র করে চরম বিবাদ সৃষ্টি হয় বিষ্ণুপুর মল্লভূম এবং সামন্তভুম ছাতনার মধ্যে। তারপর এই দৈব বিবাদ মেটাতে হয় এক সন্ধি । কথিত আছে সন্ধিতে উল্লেখ করা ছিল সামন্তভূমের কুলদেবী মা বাসুলি পুজিত হবেন বিষ্ণুপুরে এবং মল্লভূমের মা মৃন্ময়ীর আরাধনা হবে সামন্তভুম ছাতনায়। তখন থেকেই শুরু ছাতনা রাজবাড়ীর বিষ্ণুপুরী আদলে দুর্গোৎসব।

নিষ্ঠা ভরে পূজিত হন মা মৃন্ময়ী। নিজের হাতে পুজো করেন বর্তমান রাজা প্রদীপ সিংহ দেও। পূজার পর পুনরায় বাসুলি মন্দিরে গিয়ে পূজা সেরে নেন মানসিক শান্তির জন্য। নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ছাতনার রাজবাড়িতে দুর্গোৎসব শেষ হলে মন্দিরে এসে মায়ের মুখ দেখেন না রাজ পরিবারের সদস্যরা। বিসর্জনের দিন সময় হলে সূর্যাস্তের পর ছাতনার এক বিশেষ পাড়া থেকে জমা হন একাধিক মানুষ। বংশপরম্পরা অনুযায়ী বিগত ৬০০ বছর ধরে এনারাই করে আসছেন বিসর্জনের কাজ। বিসর্জনের সময় ঘরের ভেতরে থাকেন রাজ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অজান্তেই হয়ে যায় মায়ের বিসর্জন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
To Top