মলয় সিংহ, বাঁকুড়া: দিন কয়েক আগে বিজেপির বাঁকুড়া জেলা কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে তালাবন্দী করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। এবার সেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপির জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হল বিজেপিরই একাংশ। বাঁকুড়ার শালতোড়ার এই ঘটনায় রীতিমত অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। তৃনমূলের কটাক্ষ এই ছবিই প্রমাণ করছে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ কতটা প্রকট। শালতোড়ার পাশাপাশি বাঁকুড়াতেও এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার ও বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুনীল রুদ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে পথে নামেন দলেরই একাংশ কর্মী। শহরের মাচানতলায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দলে প্রতিবাদ করলেই কর্মীদের নামে মিথ্যা কেস দিচ্ছেন জেলা সভাপতি। এ নিয়েই এদিন বিকেলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বাঁকুড়া জেলা জুড়ে প্রকট হচ্ছে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ। প্রকট হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার ও বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মন্ডলের উপর বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ। দল ও সংগঠন চালনার ক্ষেত্রে সুভাষ সরকার ও সুনীল রুদ্র মন্ডল একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন এই অভিযোগ তুলে সসপ্তাহ দুই আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে দলের বাঁকুড়া জেলা কার্যালয়ে তালাবন্দী করে বিক্ষোভ দেখান দলেরই কর্মীদের একাংশ। হেনস্থা করা হয় দলের জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মন্ডলকেও। এবার শালতোড়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এলাকার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার ও বিজেপির জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে শালতোড়ায় পথে নামলেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। শনিবার দুপুরে শালতোড়া লেদ মোড়ে রীতিমত রাস্তার পাশে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। শ্লোগান ওঠে সুভাষ সরকার ও সুনীল রুদ্র মন্ডল মুর্দাবাদ। বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মীদের দাবী সদ্য শেষ হওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে শালতোড়া ব্লকে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন বিজেপি কর্মীরা।সেজন্য বারংবার শাসক দলের হাতে তাঁদের আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরীকে তাঁরা পাশে পেলেও পাশে পাননি এলাকার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকারকে। অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। বিজেপি কর্মীদের দাবী মন্ডল সভাপতি সহ সাংগঠনিক বিভিন্ন পদে রদবদলের ক্ষেত্রে সুভাষ সরকার ও সুনীল রুদ্র মন্ডল দলের স্থানীয় কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেননি। নিজেরা ঠান্ডা ঘরে বসে নিজেদের কাছের লোকদের দলীয় পদ পাইয়ে দিয়েছেন। অবিলম্বে দলের সংগঠনকে নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ না হলে জেলা জুড়ে আন্দোলন আরো তীব্রতর করার হুশিয়ারি দিয়েছে বিজেপির বিক্ষোভকারী কর্মীরা। তৃনমূলের দাবী পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলই প্রমাণ করছে এলাকায় বিজেপির কোনো অস্তিত্ব নেই। হাতে গোনা যে কজন রয়েছে সাংসদকে কাছে না পেয়ে তারাও বিক্ষুব্ধ। এভাবেই বিজেপি শেষ হবে বলে কটাক্ষ করেছেন শালতোড়ার তৃনমূল ব্লক সভাপতি সন্তোষ কুমার মন্ডল।




