স্কাই বাংলা, বাঁকুড়া: সালটা ছিল ২০০১,বাঁকুড়া জেলার শিল্প তালুক নামে পরিচিত বড়জোড়ায় ঘটা করে উদ্বোধন হয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল পাওয়ার ডেভেলপমেন্টের খোলা মুখ কয়লা খনি। এই কয়লা খনি উদ্বোধনের পরে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মিলে ছিল কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি।কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও কাজের কাজ বলতে কিছুই হয়নি।রাজ্যে ২০১১ সালে রাজনৈতিক পালা বদলের পরেও পরিস্থিতি আজও একই রয়ে গেছে।এর ওপর দোসর হয়ে দাঁড়িয়েছে খোলা মুখ কয়লা খনির ব্লাস্টিং।কয়লা উত্তোলন করার জন্য ডিনামাইট ব্লাস্টিং করে চলে বিভিন্ন মেশিন পত্র দিয়ে কয়লা উত্তোলনের কাজ।রাজ্য সরকারের এই খোলা মুখ কয়লা খনি কালক্রমে অভিশাপ হয়ে নেমে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের। কারন খোলা মুখ কয়লা খনিতে রোজ ব্লাস্টিং এর ফলে গ্রামের প্রত্যেকটা বাড়িতে ফাটল ধরেছে, এমনকি কিছু কিছু বাড়ি প্রায় ধসে পড়ারও উপক্রম। এই বিষয়টির প্রতিবাদ স্বরূপ গ্রামবাসীরা একাধিক আন্দোলনও সংগঠিত করেছে আর আন্দোলন সংগঠন করার জন্য গ্রামবাসীদের বাড়তি পাওনা হিসেবে মিলেছে পুলিশি কেস। গ্রামবাসীরা তাদের এই সমস্যার কথা একাধিক প্রশাসনিক স্তরে একাধিক ভাবে জানালেও মেলেনি কোন সুরাহা। এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস মিললেও, তা এখনো কার্যকরী হয়নি বলেই অভিযোগ গ্রামবাসীদের।এই কয়লা খনিতে ব্লাস্টিং এর সময় ঘরে থাকা খুবই বিপদজনক, যে কোন মুহূর্তে একটা আস্ত বাড়ি ধসে পড়তেই পারে, তাই গ্রামবাসীদের একটাই দাবি পুণর্বাসন।এই বিষয়টি নিয়ে শাসক তৃণমূলের পক্ষ থেকে। স্থানীয় বড়জোড়া ব্লকের সভাপতি কালিদাস মুখোপাধ্যায় জানান, ব্লাস্টিংয়ের তীব্রতার ব্যাপারে মাইনিং কর্তৃপক্ষের সাথে প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে,মাইনিং কর্তৃপক্ষ ব্লাস্টিংয়ের তীব্রতা কমানোর কথা বলেছেন আর পুনর্বাসনের কথা এখনই দেওয়া সম্ভব নয় উচ্চস্তরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডা: সুভাষ সরকার জানান,স্থানীয় প্রশাসনের পরিবেশ বিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে কথা বলা উচিত আদেও এর অনুমতি রয়েছে কিনা সেটাও দেখা দরকার। এটা মূলত রাজ্য প্রশাসনেরই জানানোর বিষয়, আমি সেটাকে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পরিচালনা করবো।
তবে বিষয় যাই হোক না কেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খোলা মুখ কয়লা খনির এই ব্লাস্টিংয়ের তীব্রতা জেরে কার্যত রাতের ঘুম ছুটে গেছে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের। তারা সব সময় একটা আতঙ্কের বাতাবরণ নিয়ে দিন যাপন করছে। কি হবে তাদের ভবিষ্যৎ, কিভাবেই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তাদের এই সমস্যা থেকে অব্যাহতি পাবে, নাকি এই সমস্যা সমস্যা হয়েই রয়ে যাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।




