মলয় সিংহ, বাঁকুড়া: পুজোর মুখে ফের বাঁকুড়ায় ঢুকে পড়ল হাতির দল। বৃহস্পতিবার ভোরে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে পাঞ্চেত বন বন বিভাগে এসে হাজির হয় প্রায় ৪২টি হাতি। দলে কয়েকটি শাবকও রয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। পুজোর মুখে দলবেঁধে হাতিরা এসে হাজির হওয়ায় উদ্বিগ্ন জঙ্গল লাগোয়া গ্রামবাসীরা। তবে হাতির দলকে ম্যানেজ করতে তৎপর রয়েছে বন দপ্তর। এ ব্যাপারে বুধবারই বেলিয়াতোড় বন দপ্তরের রেস্ট হাউসে একটি সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলাপরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায়, বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি, বাঁকুড়া সদর মহকুমাশাসক সুশান্ত কুমার ভক্ত। ছিলেন মুখ্য বনপাল (কেন্দ্রীয় চক্র) এস কুলানডাইভেল, বাঁকুড়া উত্তর, দক্ষিণ ও পাঞ্চেত বন বিভাগের ডিএফও, এডিএফও সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। এছাড়াও ছিলেন সাম্মানিক বন্যপ্রাণ সংরক্ষক মথুর কাপড়ি।এই মুহুর্তে মাঠ জুড়ে রয়েছে আমন ধান। তার উপর সামনেই দুর্গাপুজো। তাই এই সময় হাতিদের আগমন চিন্তায় ফেলেছে গ্রামবাসীদের। যদিও বন দপ্তর হাতিদের ম্যানেজ করতে রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছে।
পাঞ্চেত বন বিভাগ থেকে দুএক দিনের মধ্যেই হাতির দল বাঁকুড়া উত্তরে এসে হাজির হবে বলেই অনুমান বন দপ্তরের। ঘাঁটি গাড়বে তাদের পছন্দের জায়গা বড়জোড়ার জঙ্গলে। বন দপ্তর জানিয়েছে, হাতিদের গতিবিধির উপর ২৪ ঘন্টা নজরদারি থাকবে বন কর্মীদের। হাতি প্রবণ এলাকায় জঙ্গল পথে থাকবে বন কর্মীদের টহল। ঘুরবে পেট্রোলিং ভ্যান। পুজোর সময়ও বাড়তি নজরদারি থাকবে হাতি প্রবণ এলাকায়।তার জন্য পুজোয় বন কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বন দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, হাতি প্রবণ এলাকায় আমাদের টিম ২৪ ঘন্টা নজরদারিতে থাকবে। আশা করছি পুজোয় মানুষের কোনও অসুবিধা হবেনা। মানুষ ঠিকঠাক ভাবেই পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এর পাশাপাশি হাতিদেরও যাতে কেউ বিরক্ত না করে সেই বার্তাও দিয়েছে বন দপ্তর।
উল্লেখ্য, গত বছর পুজোর সময় উত্তর বাঁকুড়ার জঙ্গলে ১১ টি হাতি ছিল। ২০২১ সালে ছিল প্রায় ৮০ টি। দু'বছরই অবশ্য হাতিদের ম্যানেজ করেছিল বন দপ্তর। ফলে পুজোর আনন্দ ঠিকঠাক ভাবেই উপভোগ করেছিলেন গ্রামবাসীরা। এবারও পুজোর মুখে এসে হাজির প্রায় ৪২ টি হাতি। এবারও তাদের ম্যানেজ করতে সব রকমের চেষ্টা জারি থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে বন দপ্তর।



